ব্ল্যাডি মেরি

গল্পঃ ব্ল্যাডি মেরি
কপিরাইটঃ Animated Stories

ডিসেম্বর মাস শীতের সময়, কলেজগুলোর ফাইনাল পরীক্ষা শেষ। জগদীশ তার বন্ধু গীতিকা, রিধি এবং কবির ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করলো। শহর থেকে সামান্য দূরে নদীর কাছেই জগদীশের বাবার একটি বাগানবাড়ি রয়েছে। জগদীশ তার পরিবারের সাথে মাঝে মাঝে সেখানে যায় । এবার সে তার বন্ধু-বান্ধবীদের নিয়ে যাওয়ার প্ল্যান করলো। তারা সবাই অনেক দিন ধরে প্ল্যান করছে অ্যাডভেঞ্জার টাইপ কিছু করবে। এর থেকে ভালো সুযোগ আর পাবে না। বাগানবাড়িটি সবসময় খালি থাকে। তারা সবাই ঠিক করলো সেখানেই যাবে। সন্ধ্যা ৬টা বেজে গেলো। যদিও বাগানবাড়িটি শহর থেকে বেশি দূরে না। তাও তারা তড়িঘড়ি করে নিজেদের ব্যাগ গুছিয়ে এবং প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নিয়ে রওনা দিলো। তাদের পৌছাতে রাত বারোটা বেজে গেলো। তারা তাদের ব্যাগ আর জিনিসপত্র বাড়িতে রেখে সোজা চলে গেলো নদীর দিকে। বাগানবাড়িটি খালি এখানে কেউ নেই। কোন প্রহরী বা কেয়ার টেকার কেউ নেই তাই তাদের কোন বাধা নেই। নদীর ধারে এসে তারা খুব আনন্দিত নদীর দিকে হেটে যাওয়ার সময় তাদের মনে হলো তারা যেন ভিন্ন কোন গ্রহে এসেছে। চারদিকের দৃশ্য খুবি মনেমুগ্ধ কর। চারপাশে ঠান্ডা আর চাদের আলো নদীর জলে চকচক করছে। তারা একপাশে আগুন জ্বেলে সবাই বসলো। হালকা নাস্তা খেলো সাথে ড্রিংকস। সবাই গল্প করছে তখন কবির এর মনে হলো মেয়েদের একটু ভয় দেখানো যাক। তাই সে গীতিকা আর রিধি কে তার ছোট বেলার শুনা ভূতের গল্প বলা শুরু করলো। যা তার ভাস্যমতে সত্য ঘটনা, কবির তাদের ব্ল্যাডি মেরির গল্প বলছিলো। আসলে সে বানিয়ে বানিয়ে গল্পটি বলছিলো সে গীতিকা আর রিধিকে ভয় দেখাতে চাচ্ছিলো। কিন্তু কেউ ভয় পেলো না। তারাও ছোটবেলায় এই গল্পটি শুনেছে। ব্যাপারটি এরকম যে কেউ মধ্যরাতে আয়নার সামনে দারিয়ে যদি তিনবার বলে ব্ল্যাডি মেরি তাহলে, ব্ল্যাডি মেরিকে নাকি আয়নার সামনে দেখা যায়। তা যাহোক তারা ছোটবেলায় এই গল্প শুনে ভয় পেলেও এখন পায় না। হয়তো তখন তাদের ভয় দেখানোর জন্য এইসব গল্প বলা হত। তারা কবিরের কথায় হাসাহাসি করতে লাগলো। এটি যে শুধু একটি গল্প আর কিছুই না। এটা কবিরকে প্রমান করার জন্য গীতিকা তার ব্যাগ থেকে একটি ছোট্ট আয়না নিলো । আর সেটি তার মুখের সামনে ধরে তিনবার বললো……..

ব্ল্যাডি মেরি…….. ব্ল্যাডি মেরি…….. ব্ল্যাডি মেরি……..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *