গল্পের নাম: কাকতাড়ুয়া
লেখক: সত্যজিৎ রায়
মানুষ কি তার অতীত এবং ভেতরের অপরাধবোধ থেকে কখনো পালাতে পারে? সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ছোটগল্প ‘কাকতাড়ুয়া’ মূলত এই মনস্তাত্ত্বিক সত্যেরই এক গা ছমছমে রূপক।
গল্পের মূল চরিত্র মৃদুল বাবু—একজন সফল এবং ধনী ব্যবসায়ী। নিজের গাড়িতে করে যাওয়ার সময় এক নির্জন, ধূ-ধূ প্রান্তরে হঠাৎ তাঁর গাড়িটি বিকল হয়ে পড়ে। সময় কাটানোর জন্য তিনি যখন পাশের এক ফাঁকা মাঠে পায়চারি করতে যান, তখন তাঁর চোখ পড়ে মাঠে একা দাঁড়িয়ে থাকা এক জরাজীর্ণ কাকতাড়ুয়ার দিকে।
গোধূলির আবছা আলো আর নিস্তব্ধতার মাঝে সেই জড় কাকতাড়ুয়াটি ধীরে ধীরে মৃদুল বাবুর সামনে জীবন্ত হয়ে উঠতে শুরু করে। কিন্তু এটি কোনো সাধারণ ভূত নয়; কাকতাড়ুয়াটির অবয়ব আর পোশাক মৃদুল বাবুকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তাঁর জীবনের এক অন্ধকার অতীতে, যা তিনি বহু বছর আগে শহরের জাঁকজমকের নিচে চাপা দিয়ে এসেছিলেন। নিজের স্বার্থের জন্য একদিন যাঁর জীবন তিনি ধ্বংস করেছিলেন, সেই পুরনো বন্ধুর স্মৃতি আজ এক অদ্ভুত মূর্তি ধরে তাঁর সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।
কোনো দৃশ্যমান রক্তারক্তি বা সস্তা ভয় ছাড়াই, সত্যজিৎ রায় এই গল্পে দেখিয়েছেন কীভাবে মানুষের অবদমিত ‘অপরাধবোধ’ বা ‘Guilt’ প্রকৃতির বুকে এক অলৌকিক রূপ নিয়ে হাজির হতে পারে। নিস্তব্ধ গ্রামীণ পরিবেশ, মনের ভেতরের ছটফটানি আর স্লো-বার্ন আবহ—সব মিলিয়ে এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সেরা একটি মনস্তাত্ত্বিক হরর গল্প।
